আনারস চাষ পদ্ধতি । আনারস চাষের জন্য মাটি ও জমি তৈরি


আনারস চাষ পদ্ধতি 

এখন বাংলাদেশের অনেক জমিতে আনারস চাষ করা হচ্ছে । বিশেষ করে সিলেট মৌলভীবাজার চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম টাঙ্গাইলের মধুপুর  ঢাকা-নরসিংদী কুমিল্লা দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন জাইগাই সব থেকে বেশি আনারস চাষ করা হয়ে থাকে । নানা  ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার তৈরিতে আনারস ব্যবহৃত হওয়ার কারণে পৃথিবীর অনেক দেশের আনারসের উপর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে । তাই আনারসের আন্তর্জাতিক চাহিদা রয়েছে অনেক । বর্তমান বাংলাদেশ রপ্তানি পণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ অবদান রাখছে আনারস ।

আনারস চাষের জন্য মাটি ও জমি তৈরি


বেলে ও বেলে দোআঁশ মাটি আনারস উৎপাদনের জন্য ভালো । জমি চাষ সময় এমনভাবে দিতে হবে যাতে মাটি জুরজুরা ও সমতল হয় এবং জমিতে বৃষ্টির পানি যেনও জমে না থাকে ।আনারস চাষ করার জন্য সমতল জমি নির্বাচন করতে হবে । চারা রোপণের জন্য  সমতল জমিতে 15 সেন্টিমিটার এবং 1 মিটার প্রশস্ত বেড তৈরি করতে হবে । বেড এর থেকে  বেডের দূরত্ব হবে 50 থেকে 100 সেমি । পাহাড়ের ঢালু জমিতে চাষ করলে কোনক্রমে চাষ বা কোদাল দিয়ে মাটি আলগা করা যাবে না। শুধু আগাছা ভালোভাবে পরিষ্কার করে চারা রোপণের উপযোগী করতে হবে ।

আনারস গাছের বংশবিস্তার অঙ্গজ পদ্ধতিতে হয়ে থাকে । আনারস গাছের চার ধরনের চারা উৎপাদন হয় যাদেরকে শাখার বলে । 

শাখার এর বিবরণ নিম্নে দেয়া হল ।


১। ফলের মাথায় দুই ধরনের চারা উৎপন্ন হয় । ফলের মাথায় সোজাভাবে যে ছাড়া উৎপন্ন হয় তাকে মুকুট চারা বলে । আর মুকুট চারার গোড়া থেকে যে চারা বের হয় তাকে স্কন্দ চারা বা মুকুট স্লিপ বলে । 

২। ফলের গোরা বা বোঁটার ওপর থেকে যে ছাড়া বের হয় তাকে বোটা চারা বলে ।  

৪। ভোটার নিচে কিন্তু মাটির উপরে কান্ড থেকে যে চারা বের হয় তাকে পার্শ্ব চারা বলে । 

৫। গাছের গোড়া থেকে মাটি ভেদ করে যে ছাড়া বের হয় তাকে গোড়ার কেকরি চারা বলে । আনারসের জন্য কেকরি চারা ও পার্শ্ব ছাড়া সবচেয়ে ভালো ।

চারা রোপণ মধ্যা আশ্বিন হতে মধ্যা মাঘ  পর্যন্ত এ একমাস আনারসের চারা রোপনের সঠিক সময় । তবে সেসের ব্যবস্থা থাকলে চারা রোপণের সময় আরও এক দেড় মাস পেছানো যায় । সারি থেকেই সারির দূরত্ব 40 সেন্টিমিটার এবংচারা থেকে তারার দূরত্ব 30-40 সেন্টিমিটার এ রোপণ করতে হবে ।

অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা 


শুষ্ক মৌসুমে জমিতে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে । বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি নিকাশের জন্য নালা কেটে দিতে হবে । পাতা বেশি বড় হলে তাহলে 30 সেন্টিমিটার পাতা সমান করে কেটে দিতে হবে । আনারসের জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে ।আনারস তেমন কোন ক্ষতিকারক পোকামাকড় রোগ সহজে আক্রমণ করে না । তাই বালাই ব্যবস্থাপনা আলোচনা করা হলো না । চারার বয়স 15 - 16 মাস পর মাঘ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত সময় আনারসের ফুল আশা শুরু করে । জৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র পর্যন্ত আনারস পাকতে শুরু করে । এরপর গাছ থেকে বোটা কেটে আনারস সংগ্রহ করতে হয় ।

ফলন প্রতি হেক্টরে হানিকুইন 20 থেকে 25 টন এবং জায়েন্ট কিউ 30 থেকে 40 টন ফলন দিয়ে থাকে ।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post