ক্যারিয়ার গঠনে গুণ ও দক্ষতা | ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির গঠন

ক্যারিয়ার গঠনে গুণ ও দক্ষতা

ক্যারিয়ার গঠনে গুণ ও দক্ষতা ।


ভবিষ্যতে জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ এবং পরিবার সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষেত্রে প্রথমেই নিজের ক্যারিয়ার গঠনে যত্নবান হতে হবে । ভালোভাবে ক্যারিয়ার গঠন করতে হলে বিশেষ কিছু গুণ ও দক্ষতা অর্জন করা জরুরি । ক্যারিয়ার গঠনে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা নিয়ে আলোচনা করা হলো ।

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

মানব জীবনে সাফল্যের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি । একটি বিশেষ অথচ অদৃশ্য উপাদান জন্মের পর থেকে শুরু করে বেড়ে উঠার সময় মানুষের মধ্যে অজান্তেই আদর্শ এবং দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে থাকে । পরিবেশ পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক করনের মধ্যদিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের মনে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে । 

মানুষ যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে । একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে তা নির্ভর করবে সে কেমন শিক্ষা পাচ্ছে । কেমন পরিবেশ বা সমাজে বেড়ে উঠেছে এবং সংস্কৃতিতে লালন করছে । এজন্য একটি পরিবার সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হয় ।

দৃষ্টিভঙ্গির মনোভাব মানুষের কথাবার্তার ধরণ । অর্থাৎ কোন বিষয়কে কে কিভাবে দেখছে বা কিভাবে নিশ্চয় সেটাকে বলা যায় দৃষ্টিভঙ্গি । দৃষ্টিভঙ্গি আছে মানুষের মনোজাগতিক আদর্শের আলোকে । সে যেকোনো বিষয়কে বিচার করে কেউ বিষয়কে ভালোভাবে নেয়া বা ওই বিষয়ের প্রতি ভালো মনোভাব পোষণ করা । কিংবা বিষয়টিকে ইতিবাচক মানসিকতা মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ।

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব ।

পারস্পারিক সৌহার্দ্য পূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সমাজের সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব । ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সমাজের সকলের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে । মানুষের ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে তার স্বকীয়তা বিদ্যমান যে যত বেশি ব্যক্তি যত্নবান সে ততো বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ সক্ষম । ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে ।

সমাজে যিনি যত জনপ্রিয় তিনি মানুষের কাছে ততটা শ্রদ্ধা ও সম্মান পেয়ে থাকেন । ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে মানুষের কাছাকাছি অবস্থান করা সহজ এবং এ ধরনের মানুষকে সবাই পছন্দ করে । ফলে সমাজে সম্মানের অধিকারী হয় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় সাফল্যের পথ সুগম হয় ।

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির গঠন ।

বিভিন্নভাবে স্মৃতি বাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে পারে । ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে শিক্ষা ।মানুষের অন্তর্নিহিত প্রতিবাদ শক্তিকে জাগ্রত এবং প্রসারিত করে সংস্পর্শে এসে মানুষ চিন্তন দক্ষতা করতে পারে । এর মাধ্যমে চিন্তা করার ধরণ মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে ফলে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি মনোভাব তৈরি হয় ।

ইতিহাস ও ঐতিহ্য ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে । আমাদের দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে লালন করে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব পরিলক্ষিত হয় ।

মানুষের পথ গঠিত হয় তার পরিবার সমাজ থেকে পরিবারের প্রবীণ সদস্যগণ কোন বিষয়কে কিভাবে বিবেচনা করে সেটি দেখে । পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করে অপরদিকে সমাজে বসবাস করার পাশাপাশি মানুষ তার চারপাশের পরিবেশ থেকে দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করে । সামাজিক বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পারস্পারিক সম্পর্ক ধর্মীয় অনুশাসন বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে তাদের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিশীলিত হয় ।

মানুষ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করে । নানা রকমের ঘটনা-দুর্ঘটনা প্রভাব মানুষের মনোভাব পরিবর্তন বিশেষ ভূমিকা রাখে । বাস্তব জীবনের ঘটনা থেকে কি শিক্ষা পেলে এবং তার কোন ধরনের অভিজ্ঞতা হল এর উপর ভিত্তি করে তার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে । কোন ঘটনার প্রতি মনোযোগী হওয়ার মাধ্যমে দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা যায় ।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post