গৃহপালিত পশুর আবাসন | পশুরা আবাসনের স্থান নির্বাচন করা

গৃহপালিত পশুর আবাসন

গৃহপালিত পশুর আবাসন ।

সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এবং অধিক উৎপাদনের জন্য অধিকতর আনন্দের পরিবেশে পশু আশ্রয় প্রদান কে গৃহপালিত পশুর আবাসন বলা হয়। সুখে থাকার জন্য যে আরামদায়ক ঘর তৈরি করে দেয়া হয় তাকে বাসস্থান বা গোয়ালঘর বলে ।পশুর বাসস্থান বা গোয়ালঘর এর অনেক সুবিধা রয়েছে । গোয়াল ঘরে একক বা দলগতভাবে পশুপালন করলে ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হয় , এবং উৎপাদন খরচ কমে আসে । গোয়াল ঘরে পশুকে সবসময় আবদ্ধ না রেখে মাঝে মাঝে বাইরে ঘুরিয়ে আনা পশুর স্বাস্থ্যের জন্য উত্তম। 

আবাসনের উদ্দেশ্য ।

  • আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা  ।
  • পশুকে আশ্রয় ও বিশ্রাম দেওয়া ।
  • পোকামাকড় ও বন্য পশুপাখি থেকে রক্ষা করা  ।
  • চোরের হাত থেকে রক্ষা করা ।
  • পশুকে শান্ত করা  ।
  • গর্ভবতী ও প্রসূতি ও বাচ্চার সঠিক পরিচর্যা করা  ।
  • পশু থেকে অধিক দুগ্ধ উৎপাদন করা  ।
  • দক্ষতার সাথে দুধ দোহন করা  ।
  • খাদ্য ও পানি সরবরাহ সঠিক ও সহজ করা  ।
  • পশুর একক ও নিবিড় যত্ন নেওয়া ।
  • সময়মতো চিকিৎসা সেবা দেওয়া  ।
  • সহজে গোয়াল ঘর পরিষ্কার করা ।
  • রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা গবর ও অন্যান্য বজ্র সংরক্ষণ করা  ।
  • উৎপাদন খরচ কমানো ইত্যাদি ।

পশুরা আবাসনের স্থান নির্বাচন কর ।

পশুর আবাসনের জন্য স্থান নির্বাচন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । স্থান নির্বাচন সঠিক না হলে খামার লাভজনক করা যায় না ।স্থান নির্বাচন আবাসন মূলধন ও পশুর সংখ্যার সাথে সম্পর্কযুক্ত । নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো জন্য গৃহপালিত পশুর বাসস্থান তৈরি করতে হবে ।

  • উঁচু শুকনো ও বন্যা মুক্ত এলাকা  ।
  • বাজার মহাসড়ক ও বসতি থেকে একটু দূরে  ।
  • দুধ ও মাংস বাজারজাত করার সুবিধা  ।
  • ভালো যাতায়াত ব্যবস্থা বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের সুবিধা । 
  • গোয়াল ঘর বা খামার এলাকা থেকে সহজে পানি নিষ্কাশন । 
  • গোয়াল ঘরে যেনো সূর্যের আলো পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখা । 
  • গোয়াল ঘরের চারপাশ পরিষ্কার রাখার জন্য খাদ্য পানি সরবরাহের বিষয়টি মনে রাখা । 
  • ভবিষ্যতে খামার বড় করার সুযোগ থাকা ইত্যাদি ।

গরুর আবাসন ।

গরুর আবাসন গরু আবাসনের জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো গোয়া শালা গোয়াল ঘরে বেঁধে পশু পালন করা । ঘরের আকার পশুর সংখ্যার উপর নির্ভর করে । গাভির সংখ্যা 10 বা তার অধিক হলে দুই সারি বিশিষ্ট ঘর তৈরি করতে হবে । আর গাভির সংখ্যা 10 এর কম হলে ১ সারি বিশিষ্ট ঘর তৈরি করতে হবে ।

কৃষির অগ্রগতি ও বিকাশের সাথে পশুও গাভী পালন অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত । বলা হয়ে থাকে একটি জাতির মেধার বিকাশ নির্ভর করে মূলত উপজাতি কতটুকু দুধ পান করে তার উপর। আজকের বিশ্বে যেখানে কৃষি বিকাশ লাভ করেছে গাভীর দুধ উৎপাদন সেখানে শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে । আমাদের দেশেও মোটামুটি ভাবে গাভী পালনে একটি শিল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে । তবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গাভী লালন-পালন করলে এদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে ।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post