ক্যারিয়ারের সফলতার সম্পর্ক স্থাপন | সম্পর্ক স্থাপনে করণীয়

ক্যারিয়ারের সফলতার সম্পর্ক স্থাপন

ক্যারিয়ারের সফলতার সম্পর্ক স্থাপন

ক্যারিয়ার গঠন তথা জীবনে সাফল্যের জন্য অবশ্যই বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে । বর্তমান পৃথিবীতে অনেক চাকরি অভ্যন্তরীণভাবে হয়ে থাকে । অর্থাৎ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দিয়ে পরিচিত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। এভাবে দীর্ঘ নিয়োগ প্রক্রিয়া খরচ প্রতিষ্ঠানগুলোর বেঁচে যাই । তাই পরিচিত হওয়া দরকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে । সবসময় যোগাযোগ রাখা দরকার যে কোন কাজের খবর কখন কে দিতে পারে তা আগে থেকে বলা যায়না । তাই ক্যারিয়ারের স্বার্থে পারস্পারিক যোগাযোগ অপরিহার্য ।

এখন দেখি চাকরি পাওয়ার আগে এবং চাকরিরত অবস্থায় তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে

  • আশেপাশে স্কুল-কলেজে পরিচিতজন 
  • কোনো অনুষ্ঠান বা সামাজিক সম্মেলনের নতুন মুখের পরিচিত 
  • আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব 
  • অফিসের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী 
  • প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাগণ 
  • কর্মরত প্রতিষ্ঠান 
  • গ্রাহক 
  • উর্দ্ধতন কর্মকর্তা 

ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হয় 

  • আত্মীয়-স্বজন 
  • পাড়া-প্রতিবেশী
  • নিজ প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী 
  • গ্রাহক 
  • ব্যবসায় অন্য যে সকল পণ্য বা সেবা প্রতিষ্ঠান উপর নির্ভরশীল সে সকল প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি 
  • স্থানীয় উদ্যোক্তা 
  • স্থানীয় সরকারের প্রশাসন 
  • বিজ্ঞাপন প্রচার ও গণমাধ্যম

সম্পর্ক স্থাপনে করণীয় 

  • আন্তরিকতার সাথে কুশল বিনিময়। 
  • দেখা হলে কিছুটা সময় একসাথে আলাপ আলোচনা করা 
  • বিপদে-আপদে পরিচিতজনদের খোঁজখবর নেওয়া 
  • সাধারণ আগ্রহের সাথে সবসময় কথা বলা 
  • বিষয়ে কথা বলা হাসিখুশি থাকা যায় তা প্রকাশ করা 
  • সামাজিক উৎসব বা অনুষ্ঠানে খোঁজখবর নেওয়াও 
  • শুভেচ্ছা বিনিময় 
  • সমস্যায় পড়লে সাহায্য করা 
  • সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিয়মানুবর্তিতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা

ঘটনা : জামান সাহেব আজহার সাহেব একই অফিসে দীর্ঘদিন চাকরি করছে । তাদের দুজনের মধ্যে যথেষ্ট ভাল সম্পর্ক বিদ্যমান । অফিসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে তাদের বাসায় যাতায়াত আছে । এইতো সেদিন জামান সাহেবের মেয়ের জন্মদিনের দাওয়াত এগিয়েছিলেন আজহার সাহেব ।

পরস্পর ভালো সম্পর্ক থাকলে তাদের আচরণগত কিছু পার্থক্য রয়েছে । জামান সাহেব সময়মত অফিস এর সব কাজ করে তিনি জমা দেন । উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেন । তাকে কিভাবে হেল্প করবেন নানা দিকে খেয়াল রাকেন । ও জামান সাহেব এর সকল কর্মকর্তাদের সাথে তার সম্পর্ক খুব ভালো । 

অন্যদিকে আজহার সাহেব একজন কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত। কোনদিন তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ কেউ পায়নি । তিনি নিয়মিত অফিসে আসেন । সহকর্মীদের সাথে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে । তিনি উর্দ্ধতন কর্মকর্তা্কে সব কাজ করে জথা সময় এ জমা দেন । এবং তার সাথে তিনি সর্বক্ষণ যোগাযোগ করেন এমন নয় এর পর একদিন দিন শোনা জাই জামান সাহেবের পদোন্নতি হয়েছে ।

অর্থাৎ এই ঘটনা থেকে যে শিক্ষা পায় তা হল সকল ক্ষেত্রে সৎ ও নিয়মানুবর্তিতা হওয়ার পাশাপাশি সকলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া একটি ভালো দিক বা বৈশিষ্ট্য ।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post